০৪:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গজারিয়ার বিখ্যাত অহিদ মিষ্টান্ন ভান্ডারে শিরা বিতর্ক: ভোক্তাদের ভাবনার সময় এখন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩২:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৬৬ Time View

এস এম নাসির উদ্দিন (বিচিত্র সংবাদ):মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে সুপরিচিত নাম ‘হাজী অহিদ মিষ্টান্ন ভান্ডার’ ও ‘ভাতিজা মিষ্টান্ন ভান্ডার’। এ দুইটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির জন্য এলাকার মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোকান দুটি একই পরিবারের—মামা-ভাগিনা সম্পর্কের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে।তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভোক্তাদের মধ্যে একটি নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তারা ১ কেজি মিষ্টির সঙ্গে প্রায় ৩৫০ গ্রাম ‘শিরা’ (চিনি মিশ্রিত পানি) যুক্ত করে দিচ্ছেন, যা মূলত ওজনের অংশ হিসেবেই ধরা হচ্ছে। অর্থাৎ, ক্রেতা ১ কেজি মিষ্টি কিনলেও প্রকৃতপক্ষে পাচ্ছেন প্রায় ৬৫০ গ্রাম শুকনো মিষ্টি এবং বাকি অংশে শিরা।স্থানীয় ভোক্তাদের কেউ কেউ বলছেন, ৩৫০ টাকায় মিষ্টি কিনে তারা যেন ‘ঠকছেন না জিতছেন’, সেটিই এখন প্রশ্ন। আগে শুকনো মিষ্টি বিক্রি হলেও বর্তমানে শিরা যুক্ত করে ওজন বাড়ানোয় বাস্তবে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি তাদের।গজারিয়ার সচেতন নাগরিক ও ক্রেতারা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকের মতে, এটি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় তদন্তযোগ্য বিষয়। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।এই বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব) গজারিয়া উপজেলার সভাপতি বলেন “ভোক্তাদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। কোনো ব্যবসায়ী যদি ওজনের সাথে অতিরিক্ত শিরা যোগ করে প্রকৃত পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দেন, সেটি ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছি। ব্যবসা অবশ্যই লাভজনক হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই ভোক্তার ক্ষতির বিনিময়ে নয়।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গজারিয়ায় গভীর রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি নগদ টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট

গজারিয়ার বিখ্যাত অহিদ মিষ্টান্ন ভান্ডারে শিরা বিতর্ক: ভোক্তাদের ভাবনার সময় এখন

Update Time : ১১:৩২:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

এস এম নাসির উদ্দিন (বিচিত্র সংবাদ):মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে সুপরিচিত নাম ‘হাজী অহিদ মিষ্টান্ন ভান্ডার’ ও ‘ভাতিজা মিষ্টান্ন ভান্ডার’। এ দুইটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির জন্য এলাকার মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোকান দুটি একই পরিবারের—মামা-ভাগিনা সম্পর্কের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে।তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভোক্তাদের মধ্যে একটি নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তারা ১ কেজি মিষ্টির সঙ্গে প্রায় ৩৫০ গ্রাম ‘শিরা’ (চিনি মিশ্রিত পানি) যুক্ত করে দিচ্ছেন, যা মূলত ওজনের অংশ হিসেবেই ধরা হচ্ছে। অর্থাৎ, ক্রেতা ১ কেজি মিষ্টি কিনলেও প্রকৃতপক্ষে পাচ্ছেন প্রায় ৬৫০ গ্রাম শুকনো মিষ্টি এবং বাকি অংশে শিরা।স্থানীয় ভোক্তাদের কেউ কেউ বলছেন, ৩৫০ টাকায় মিষ্টি কিনে তারা যেন ‘ঠকছেন না জিতছেন’, সেটিই এখন প্রশ্ন। আগে শুকনো মিষ্টি বিক্রি হলেও বর্তমানে শিরা যুক্ত করে ওজন বাড়ানোয় বাস্তবে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি তাদের।গজারিয়ার সচেতন নাগরিক ও ক্রেতারা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকের মতে, এটি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় তদন্তযোগ্য বিষয়। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।এই বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব) গজারিয়া উপজেলার সভাপতি বলেন “ভোক্তাদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। কোনো ব্যবসায়ী যদি ওজনের সাথে অতিরিক্ত শিরা যোগ করে প্রকৃত পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দেন, সেটি ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছি। ব্যবসা অবশ্যই লাভজনক হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই ভোক্তার ক্ষতির বিনিময়ে নয়।”