০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

📰 বিশেষ সম্পাদকীয় মানবাধিকার ও সাংবাদিকতা: একে অপরের পরিপূরক বাস্তবতা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪০:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৬১ Time View

✍️এস এম নাসির উদ্দিন বিশেষ সম্পাদকীয়:বর্তমান বিশ্বে সাংবাদিকতা আর মানবাধিকার যেন একে অপরের ছায়াসঙ্গী। যেখানে একজন সাংবাদিক সত্য উদঘাটনের ব্রত নিয়ে কাজ করেন, সেখানেই মানবাধিকার রক্ষার আরেকটি দরজা খুলে যায়। মানবাধিকারের চেতনাই সাংবাদিকতাকে দেয় সাহস, আর সাংবাদিকতার কলমই জাগিয়ে তোলে মানুষের মৌলিক অধিকারের চিত্র।
সাংবাদিকতা কেবল খবর পরিবেশনের মাধ্যম নয়; এটি হলো সমাজের দর্পণ। একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক যখন নির্যাতিত নারীর কথা বলে, গুম-খুনের ঘটনা তুলে ধরে, কিংবা দুর্নীতির প্রতিবাদ করে—তখনই সে মানবাধিকারের প্রবল এক যোদ্ধায় রূপ নেয়। অন্যদিকে, যদি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্য পাওয়ার অধিকার কিংবা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা না থাকে, তবে গণমাধ্যম নীরব হয়ে পড়ে, মানবাধিকারও বিপন্ন হয়।
বিশ্বজুড়ে আজও বহু সাংবাদিক শুধুমাত্র সত্য প্রকাশের দায়িত্ব পালনের জন্য নির্যাতিত হচ্ছেন, প্রাণ দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যেন তারা নির্ভয়ে মানবাধিকারের পক্ষে কলম ধরতে পারেন।বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও আমরা দেখেছি, সাংবাদিকতা যেমন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, তেমনি মানবাধিকার রক্ষার প্রতিও দায়বদ্ধ থাকে। শিশুশ্রম, নারীর প্রতি সহিংসতা, সংখ্যালঘু নিপীড়ন কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো যখন পত্রিকার শিরোনাম হয়, তখনই মানুষ সচেতন হয়, রাষ্ট্র জবাবদিহির মুখোমুখি হয়।সুতরাং, মানবাধিকার ও সাংবাদিকতা একে অপরের পরিপূরক—এটি নিছক একটি বাক্য নয়, বরং একটি বাস্তব ও শক্তিশালী সম্পর্কের প্রতিচ্ছবি। একটির অস্তিত্ব অন্যটিকে বাঁচিয়ে রাখে। এই সম্পর্ক রক্ষা করা মানে—সত্য, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের পথকে সুগম করা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গজারিয়ায় গভীর রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি নগদ টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট

📰 বিশেষ সম্পাদকীয় মানবাধিকার ও সাংবাদিকতা: একে অপরের পরিপূরক বাস্তবতা

Update Time : ০২:৪০:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

✍️এস এম নাসির উদ্দিন বিশেষ সম্পাদকীয়:বর্তমান বিশ্বে সাংবাদিকতা আর মানবাধিকার যেন একে অপরের ছায়াসঙ্গী। যেখানে একজন সাংবাদিক সত্য উদঘাটনের ব্রত নিয়ে কাজ করেন, সেখানেই মানবাধিকার রক্ষার আরেকটি দরজা খুলে যায়। মানবাধিকারের চেতনাই সাংবাদিকতাকে দেয় সাহস, আর সাংবাদিকতার কলমই জাগিয়ে তোলে মানুষের মৌলিক অধিকারের চিত্র।
সাংবাদিকতা কেবল খবর পরিবেশনের মাধ্যম নয়; এটি হলো সমাজের দর্পণ। একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক যখন নির্যাতিত নারীর কথা বলে, গুম-খুনের ঘটনা তুলে ধরে, কিংবা দুর্নীতির প্রতিবাদ করে—তখনই সে মানবাধিকারের প্রবল এক যোদ্ধায় রূপ নেয়। অন্যদিকে, যদি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্য পাওয়ার অধিকার কিংবা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা না থাকে, তবে গণমাধ্যম নীরব হয়ে পড়ে, মানবাধিকারও বিপন্ন হয়।
বিশ্বজুড়ে আজও বহু সাংবাদিক শুধুমাত্র সত্য প্রকাশের দায়িত্ব পালনের জন্য নির্যাতিত হচ্ছেন, প্রাণ দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যেন তারা নির্ভয়ে মানবাধিকারের পক্ষে কলম ধরতে পারেন।বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও আমরা দেখেছি, সাংবাদিকতা যেমন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, তেমনি মানবাধিকার রক্ষার প্রতিও দায়বদ্ধ থাকে। শিশুশ্রম, নারীর প্রতি সহিংসতা, সংখ্যালঘু নিপীড়ন কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো যখন পত্রিকার শিরোনাম হয়, তখনই মানুষ সচেতন হয়, রাষ্ট্র জবাবদিহির মুখোমুখি হয়।সুতরাং, মানবাধিকার ও সাংবাদিকতা একে অপরের পরিপূরক—এটি নিছক একটি বাক্য নয়, বরং একটি বাস্তব ও শক্তিশালী সম্পর্কের প্রতিচ্ছবি। একটির অস্তিত্ব অন্যটিকে বাঁচিয়ে রাখে। এই সম্পর্ক রক্ষা করা মানে—সত্য, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের পথকে সুগম করা।