০৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণে বাউশিয়ায় জনঅসন্তোষ ও সেবায় বিঘ্ন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৪:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • ৩৯৬ Time View

এস এম নাসির উদ্দিন গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ | ১৩ জুলাই ২০২৫:
গজারিয়া উপজেলার ৫নং বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করলেও তাঁর প্রথম দিনের অনুপস্থিতি ও পরিষেবায় শৃঙ্খলার অভাবে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
রোববার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে সেবা প্রত্যাশী নারী-পুরুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও, চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় অধিকাংশ মানুষকে বিনা সেবায় ফিরে যেতে হয়। নাগরিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন পরিষেবা পেতে এসে অনেকে পড়েছেন হয়রানিতে।সেবার মান নিয়ে জনমনে হতাশা
স্থানীয় বাসিন্দা রিপন সরকার ও জাহিদুল ইসলাম জানান, “ট্রেড লাইসেন্স নিতে এসে শুনি চেয়ারম্যান নেই। আগের মতো একদিনে কাজ শেষ হচ্ছে না, এখন দুই-তিন দিন লাগবে।”
আরও অনেকেই অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাস ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবাদুল হকের সময়কার পরিষেবা ছিল দ্রুত ও জনবান্ধব। সেই সময় নাগরিক সনদ ও ট্রেড লাইসেন্স একদিনেই পাওয়া যেত।
এবাদুল হকের প্রশংসনীয় ভূমিকা
স্বল্পমেয়াদি দায়িত্বে থাকাকালীন এবাদুল হক ইউনিয়নে কাজলা নদী পরিষ্কার, নতুন পরিষদ ভবনের কাজ শুরু এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেন। তাঁর আন্তরিকতা ও কর্মতৎপরতা স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
পুনরায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান নিয়ে বিরোধ ও প্রশ্ন
চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের অনুপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে আগেও ক্ষোভ ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অতীতেও পরিষদে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন না, ফলে নাগরিক সেবা ব্যাহত হতো।
চেয়ারম্যানের উপস্থিতির খবরে পরিষদ এলাকায় বিএনপি ও ছাত্রদলসহ বিরোধী দলের কর্মীদের জড়ো হতে দেখা যায়। একাধিক ব্যক্তি বলেন, “সরকার পতনের পর একজন আওয়ামীপন্থী চেয়ারম্যানের এইভাবে পুনরায় দায়িত্ব নেওয়া অনৈতিক।”
প্রশাসনের ব্যাখ্যা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া জানান, “হাইকোর্টের নির্দেশে মিজানুর রহমান দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও তিনি উপস্থিত নন, তবুও সেবা সংক্রান্ত কাগজপত্র তাঁর বরাবর পাঠানো হবে এবং ১-২ দিনের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হবে।”
এদিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, মিজানুর রহমান অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সেবামুখী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গজারিয়ায় গভীর রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি নগদ টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট

চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণে বাউশিয়ায় জনঅসন্তোষ ও সেবায় বিঘ্ন

Update Time : ০১:২৪:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

এস এম নাসির উদ্দিন গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ | ১৩ জুলাই ২০২৫:
গজারিয়া উপজেলার ৫নং বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করলেও তাঁর প্রথম দিনের অনুপস্থিতি ও পরিষেবায় শৃঙ্খলার অভাবে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
রোববার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে সেবা প্রত্যাশী নারী-পুরুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও, চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় অধিকাংশ মানুষকে বিনা সেবায় ফিরে যেতে হয়। নাগরিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন পরিষেবা পেতে এসে অনেকে পড়েছেন হয়রানিতে।সেবার মান নিয়ে জনমনে হতাশা
স্থানীয় বাসিন্দা রিপন সরকার ও জাহিদুল ইসলাম জানান, “ট্রেড লাইসেন্স নিতে এসে শুনি চেয়ারম্যান নেই। আগের মতো একদিনে কাজ শেষ হচ্ছে না, এখন দুই-তিন দিন লাগবে।”
আরও অনেকেই অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাস ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবাদুল হকের সময়কার পরিষেবা ছিল দ্রুত ও জনবান্ধব। সেই সময় নাগরিক সনদ ও ট্রেড লাইসেন্স একদিনেই পাওয়া যেত।
এবাদুল হকের প্রশংসনীয় ভূমিকা
স্বল্পমেয়াদি দায়িত্বে থাকাকালীন এবাদুল হক ইউনিয়নে কাজলা নদী পরিষ্কার, নতুন পরিষদ ভবনের কাজ শুরু এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেন। তাঁর আন্তরিকতা ও কর্মতৎপরতা স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
পুনরায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান নিয়ে বিরোধ ও প্রশ্ন
চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের অনুপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে আগেও ক্ষোভ ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অতীতেও পরিষদে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন না, ফলে নাগরিক সেবা ব্যাহত হতো।
চেয়ারম্যানের উপস্থিতির খবরে পরিষদ এলাকায় বিএনপি ও ছাত্রদলসহ বিরোধী দলের কর্মীদের জড়ো হতে দেখা যায়। একাধিক ব্যক্তি বলেন, “সরকার পতনের পর একজন আওয়ামীপন্থী চেয়ারম্যানের এইভাবে পুনরায় দায়িত্ব নেওয়া অনৈতিক।”
প্রশাসনের ব্যাখ্যা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া জানান, “হাইকোর্টের নির্দেশে মিজানুর রহমান দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও তিনি উপস্থিত নন, তবুও সেবা সংক্রান্ত কাগজপত্র তাঁর বরাবর পাঠানো হবে এবং ১-২ দিনের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হবে।”
এদিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, মিজানুর রহমান অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সেবামুখী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।