১০:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংযোগ সড়ক ছাড়াই দাঁড়িয়ে বাঘাইয়াকান্দী-কালীপুরা সেতু, বাঁশের সাঁকো বেয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ১৯১ Time View

এস এম নাসির উদ্দিন, বিচিত্র সংবাদ :মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের বাঘাইয়াকান্দী-কালীপুরা সংযোগ সেতুর মূল নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সেতুতে উঠতে বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে পথচারীদের। এতে কয়েকটি গ্রামের প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘রসুলপুর জিসি-কালীপুরা ভায়া ইমামপুর সড়কে ৫৬ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৬০ হাজার ৩৫ টাকা ব্যয়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি সেতুর পাইল, অ্যাবাটমেন্ট, পিয়ার ক্যাপ ও ওয়াল নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। এ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সম্পন্ন কাজের বিপরীতে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়।পরবর্তীতে ব্যয় সমন্বয় করে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্নের জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হলে ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর ওরিয়েন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ২ কোটি ৫৯ লাখ ৬২ হাজার ৪১৩ টাকার চুক্তিতে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই। তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রমের প্রায় এক বছর পরও সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া শ্রমিকরা বিভিন্ন সময় নিরাপত্তাজনিত সমস্যার মুখোমুখি হওয়ায় কাজের গতি ব্যাহত হয়েছে।”সরেজমিনে দেখা যায়, বড় কালীপুরা-বাঘাইয়াকান্দী নদীর ওপর নির্মিত ৫৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি ব্যবহার উপযোগী হলেও দুই পাশে মাটি ভরাট ও পাকা সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষকে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে সেতুতে উঠতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় জনগণের যাতায়াতে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বুদ্দি মিয়া ও রাহেলা বেগম বলেন, সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এবং বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে।স্থানীয়দের দাবি, সেতুর পশ্চিম প্রান্তের সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি প্রয়োজন হলে সরকার জনস্বার্থে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিয়ে জমি অধিগ্রহণ করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করুক।গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নদী বা পানিপ্রবাহের ওপর সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে স্রোতের সঙ্গে ৯০ ডিগ্রি সমকোণে নির্মাণের বিধান অনুসরণ করায় সেতুর পশ্চিম অংশের সংযোগ সড়ক ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় কারিগরি সমাধান ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের ব্যয়সহ নতুন প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরেফিন বলেন, “সেতু এলাকায় জমি-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা রয়েছে। প্রকল্পটি এখনও চলমান রয়েছে। দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত আছে।”এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির উচ্চতাও তুলনামূলক কম হওয়ায় এর নিচ দিয়ে নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে নৌপথ ব্যবহারকারীরা সমস্যার সম্মুখীন হন।এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও সেতুর কারিগরি সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গজারিয়ায় গভীর রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি নগদ টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট

সংযোগ সড়ক ছাড়াই দাঁড়িয়ে বাঘাইয়াকান্দী-কালীপুরা সেতু, বাঁশের সাঁকো বেয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ

Update Time : ০৫:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

এস এম নাসির উদ্দিন, বিচিত্র সংবাদ :মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের বাঘাইয়াকান্দী-কালীপুরা সংযোগ সেতুর মূল নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সেতুতে উঠতে বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে পথচারীদের। এতে কয়েকটি গ্রামের প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘রসুলপুর জিসি-কালীপুরা ভায়া ইমামপুর সড়কে ৫৬ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৬০ হাজার ৩৫ টাকা ব্যয়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি সেতুর পাইল, অ্যাবাটমেন্ট, পিয়ার ক্যাপ ও ওয়াল নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। এ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সম্পন্ন কাজের বিপরীতে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়।পরবর্তীতে ব্যয় সমন্বয় করে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্নের জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হলে ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর ওরিয়েন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ২ কোটি ৫৯ লাখ ৬২ হাজার ৪১৩ টাকার চুক্তিতে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই। তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রমের প্রায় এক বছর পরও সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া শ্রমিকরা বিভিন্ন সময় নিরাপত্তাজনিত সমস্যার মুখোমুখি হওয়ায় কাজের গতি ব্যাহত হয়েছে।”সরেজমিনে দেখা যায়, বড় কালীপুরা-বাঘাইয়াকান্দী নদীর ওপর নির্মিত ৫৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি ব্যবহার উপযোগী হলেও দুই পাশে মাটি ভরাট ও পাকা সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষকে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে সেতুতে উঠতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় জনগণের যাতায়াতে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বুদ্দি মিয়া ও রাহেলা বেগম বলেন, সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এবং বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে।স্থানীয়দের দাবি, সেতুর পশ্চিম প্রান্তের সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি প্রয়োজন হলে সরকার জনস্বার্থে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিয়ে জমি অধিগ্রহণ করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করুক।গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নদী বা পানিপ্রবাহের ওপর সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে স্রোতের সঙ্গে ৯০ ডিগ্রি সমকোণে নির্মাণের বিধান অনুসরণ করায় সেতুর পশ্চিম অংশের সংযোগ সড়ক ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় কারিগরি সমাধান ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের ব্যয়সহ নতুন প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরেফিন বলেন, “সেতু এলাকায় জমি-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা রয়েছে। প্রকল্পটি এখনও চলমান রয়েছে। দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত আছে।”এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির উচ্চতাও তুলনামূলক কম হওয়ায় এর নিচ দিয়ে নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে নৌপথ ব্যবহারকারীরা সমস্যার সম্মুখীন হন।এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও সেতুর কারিগরি সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।