নিজস্ব সংবাদদাতা (বিচিত্র সংবাদ) :মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নিয়াজি টি এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতালে কর্মরত সেবিকা মরিয়ম আক্তার চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার বলি হয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা, মামলা-মোকদ্দমা এবং সন্ত্রাসী হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত পরিবার পরিজন রেখে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি।স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সেবিকা মরিয়ম আক্তার। একটি প্রসূতি রোগীর চিকিৎসাকালে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে গত ২২ মে প্রথমে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয় এবং পরদিন নবজাতক শিশুটিও মারা যায়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে মৃতের আত্মীয়-স্বজন।
পরবর্তীতে মৃত প্রসূতির আত্মীয়দের একটি অংশ মরিয়ম আক্তারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে সেবিকা মরিয়মের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকে পুলিশি তৎপরতা বাড়ে এবং তাকে একাধিকবার খোঁজাখুঁজির মুখে পড়তে হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার প্রকৃত দায়ী চিকিৎসক আড়ালে থেকে গেলেও সব দোষ চাপানো হয় সেবিকা মরিয়মের ওপর। মামলা, পুলিশের উপস্থিতি এবং স্থানীয় সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন মরিয়ম আক্তার।চরম অনিশ্চয়তা ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় দুই সন্তান, স্বামী, বৃদ্ধ মা ও অসংখ্য আত্মীয়-স্বজনকে দেশে রেখে দালালদের মাধ্যমে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করা না হলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যখাতের কর্মীরা আরও অনিরাপদ হয়ে পড়বেন। তারা সেবিকা মরিয়ম আক্তারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।