এস এম নাসির উদ্দিন( বিচিত্র সংবাদ) : মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় দলীয় মনোনয়ন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপ—কামরুজ্জামান রতন ও মহিউদ্দিন আহমেদ এর গ্রুপ—এর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।স্বাধীন (২৬) কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্বাধীন (২৮), আসিফ মীর (১৯), শিরিনা বেগম (৪৬), সাইদুল (২৫), মোস্তফা (৪৮), দেলোয়ার (৪৯), নয়ন (২৬)সহ ৮ জন আহত হন। এর মধ্যে স্বাধীন ও সাইদুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আশরাফ হোসেন রাজু জানান, আমাদের হাসপাতালে দুইজন রোগী এসেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ঢাকা পাঠানো হয়েছে। স্বাধীন নামে একজনের অবস্থা গুরুতর তার দুই হাত ও মাথায় আঘাত রয়েছে।৪ ডিসেম্বর সারা দেশে ঘোষিত ৩৬টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের তালিকায় মুন্সীগঞ্জ–৩ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন মনোনয়ন পান। আর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন বঞ্চিত হন। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে সংঘর্ষের রূপ নেয়।জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, বিকাল ৫টার দিকে মহিউদ্দিন গ্রুপ মশাল মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অপরদিকে রতন গ্রুপের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিলের প্রস্তুতিতে ছিলেন। হঠাৎ দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে গুলি, ককটেল বিস্ফোরণ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের মাধ্যমে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে গাড়ি ও অফিস ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হোসেন কালবেলাকে বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মশাল মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ তারা আমাদের ওপর হা’ম’লা চালিয়ে গাড়ি–অফিস ভাঙচুর এবং ৬–৭ জনকে মারধর করে।হোসেন্দী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মমিন মৃধা এবং মাসুম মিয়া (রতন গ্রুপ) বিচিত্র সংবাদ কে বলেন, “রতন ভাই মনোনয়ন পাওয়ায় গজারিয়াবাসী আনন্দিত ছিল। আনন্দ মিছিলের প্রস্তুতির সময় আলী হোসেনের অফিস থেকে ককটেল বিস্ফোরণ শুরু হলে আমরা প্রতিহত করি। ধানের শীষের বিরুদ্ধে যাওয়ার সুযোগ নেই।”মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান রতন বিচিত্র সংবাদ কে বলেন হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ঘটনাটি শুনেছি। অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা জড়িত তাদের বিচার চাই। নেতাকর্মীদের বলবো দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে ঐক্যবদ্ধ থাকতে।বিষয়টি নিশ্চিত করে,গজারিয়া থানার ওসি আনোয়ার আলম আজাদ বলেন,ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখন পর্যন্ত আমরা তিনজন আহতের তথ্য নিশ্চিত হয়েছি। সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় টহল চলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন,আমি ঘটনাস্থলে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে তৎপর রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।