নিজস্ব প্রতিবেদক( বিচিত্র সংবাদ) ঃ মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার কালীপুরা এলাকা সংলগ্ন মেঘনা নদীর একটি অবৈধ বালু মহালকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুটি সন্ত্রাসী দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার, ২৮ জুলাই সকাল ৯টার দিকে মেঘনা নদীতে এ সংঘর্ষটি ঘটে। সংঘর্ষে শুটার আব্দুল মান্নান (৩৮) নিহত হয়েছেন এবং তার সাথে আরো কিছু সদস্য আহত হয়েছেন।গজারিয়া নৌ-পুলিশের উপপরিদর্শক এসআই জাহাঙ্গীর আলম খান জানিয়েছেন, নিহত মান্নান গজারিয়া উপজেলার জষ্ঠীতলা গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে। তিনি জানান, ‘মান্নানের মরদেহ মেঘনা নদীতে ভাসমান একটি ইঞ্জিন নৌকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।’ নিহত মান্নানের পরণে ছিল লুঙ্গির নিচে শর্টপ্যান্ট ও গায়ে একটি নীল রংয়ের পলো শার্ট। মান্নানের স্ত্রী দাবি করেছেন, তার স্বামীকে হত্যার জন্য অনেকদিন ধরে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। নিহত মান্নানের স্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, "লালুর বৌ বলেছে, মানুষকে কন্টাক করে হলেও আমার স্বামীকে মারতে হবে।" তার দাবি, শীর্ষ সন্ত্রাসী লালু পিয়াস অনেকবারই তার স্বামীকে হুমকি দিয়েছে এবং মারার চেষ্টা করেছে। আজ সকালে, মুখোশ পরিহিত ৪-৫ জন সন্ত্রাসী গলার মধ্যে বেঁধে মান্নানকে গুলি করে হত্যা করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ও ইমামপুর এলাকা সংলগ্ন মেঘনা নদীর একটি অবৈধ বালু মহালের কর্তৃত্ব নিয়ে নৌ ডাকাত নয়ন-পিয়াস লালু শুটার মান্নান মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সোমবার ভোরে লালু, নয়ন-পিয়াস গ্রুপকে আক্রমণের উদ্দেশ্য ধাওয়া করলে, প্রতিপক্ষ গ্রুপ পিছু হটে। তবে পরবর্তীতে সকাল ৯টার দিকে নয়ন-পিয়াস লালু গ্রুপ শক্তি সঞ্চয় করে একাধিক ইঞ্জিন নৌকা নিয়ে শুটার মান্নানকে গুলি করে মৃত করে স্পিড বোর্ড নিয়ে পালিয়েযায় ।
এসময় শুটার মান্নান গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন এবং হৃদয় বাঘসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার আলম আজাদ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে নৌ-পুলিশের একটি দল রয়েছে এবং তারা ফিরলে বিস্তারিত জানানো হবে।
এটি ছিল মান্নানের জীবনের দ্বিতীয় অপরাধমূলক ঘটনা, এর আগে ১৮ জুলাই তিনি বাঘাইকান্দী মাছ বাজারে শর্টগানের গুলিতে ৪ জন মাছ ব্যবসায়ীসহ আহত করেছিলেন।
এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।